স্টাফ রিপোর্টার আরাফাত হোসেন

ডিসি – এসপির কাছে জিয়ার হত্যার বিচার চাইলেন স্বজনরা
আতঙ্কে গ্রামছাড়া আসামি পক্ষের লোকজন

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জিয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক জেলেকে হত্যার বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক মো. এহেতেশাম রেজা ও পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব, বিপিএএ, বিপিএম, পিপিএম (বার) এর সৌজন্য সাক্ষাৎকার করেছেন নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর এক টার দিকে কুমারখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ইউএনও মাহবুবুল হক, থানার ওসি আকিবুল ইসলাম, কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে নিহত ব্যক্তির মেজো মেয়ে শিলা খাতুন জানান, ‘ সুষ্ঠ তদন্ত করে আমার বাপের হত্যার আপনারা বিচার করবেন। ‘ স্ত্রী রিনা খাতুন জানান, ‘ আমার স্বামীকে যাঁরা হত্যা করেছে, আমি তাঁদের ফাঁসি চাই। আপনারা সঠিক বিচার করবেন।’ আর ডিসি – এসপি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে সঠিক বিচারের আশ্বস্ত করেন স্বজনদের।

নিহত জিয়ার হোসেন উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বের কালোয়া গ্রামের মৃত কেঁদো শেখের ছেলে। তিনি গত সোমবার বিকেলে ঢাকা পঙ্গু হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্বজনদের অভিযোগ, নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে ১২ জানুয়ারী সকালে সাবেক মেম্বর খালেক ও তাঁর তিন ছেলে রিপন, লিটনসহ তাঁদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিহত জিয়ার ও তাঁর ভাই আলতাফ হোসেনকে গুলি করে আহত করে। তার মধ্যে জিয়ার গত সোমবার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এঘটনায় গত শনিবার ১৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন নিহতের ছোট ভাই ইয়ারুল হোসেন।

অপরদিকে হত্যাকাণ্ড কেন্দ্র করে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বের কালোয়া গ্রামে। গ্রেফতার ও হামলার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে আসামি পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষরা। অনেক বাড়িতে নেই নারী ও শিশুরাও। অনেক বাড়িতে ঝুলছে তালা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সরেজমিন গিয়ে এদৃশ্য দেখা যায়।

এসময় আসামি পক্ষের চাঁদ আলী স্ত্রী মেরিনা খাতুন (৬০) জানান, তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু খালেক মেম্বরের সমর্থক। সেজন্য ভয়ে পালিয়েছে তাঁর স্বামী ও সন্তানরা। তাঁর ভাষ্য, গ্রেফতার ও হামলার আতঙ্কে অর্ধশতাধিক বাড়ির লোকজন পালিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বের কালোয়া গ্রামের সাবেক মেম্বর আব্দুল খালেকের সাথে মৃত কেঁদো শেখের ছেলেদের প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সামাজিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। পদ্মানদীতে মাছ ধরা, যেকোন নির্বাচনসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় ১২ জানুয়ারি সকালে বের কালোয়ারা মোড়ে দু’পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুই ভাই গুলিবিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। এর আগে ২০২১ সালে একই স্থানে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। সে সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

এবিষয়ে নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদী ইয়ারুল আলী জানান, সাবেক মেম্বর খালেক ও তাঁর দুই ছেলে রিপন এবং লিটনের সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। তাঁরা নিয়মিত জেলেদের কাছে চাঁদা দাবি করতো। এসব নিয়ে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই গ্রুপের সাথে তাঁদের বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় প্রতিপক্ষ তাঁদের উপর হামলা করে আসছে। তবে এবার নৌকায় ভোট দেওয়ার কারনেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের উপর হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। তিনি সুষ্ঠ বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছেন।

থানার ওসি আকিবুল ইসলাম জানান, হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইন – শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ক্যাপশন জিয়ার হত্যার বিচার চেয়ে ডিসি – এসপির সাথে সাক্ষাৎ করেন স্বজনরা। ছবি বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের।

ক্যাপশন নিহত জিয়ারের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের আহাজারি। ছবি বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের।

ক্যাপশন কুমারখালীর বের কালোয়া মোড়ে বুধবার বিকেলে পুলিশের অবস্থান।

ক্যাপশন আতঙ্কে পালিয়েছে আসামি পক্ষের লোকজন। ছবি বুধবার বিকেলে কুমারখালীর বের কালোয়া গ্রামের।