নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা দ্বিতীয় বারের মত বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিজয়ের খবরের পর রাত থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ, বিতরণ করা হয় মিষ্টি৷ আর এর সাথে সাথেই নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী মাশরাফি বিন মর্তুজাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান তারা।

জানাগেছে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্তু নড়াইল জেলায় কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হয়নি। ২০১৮ সালে প্রথম নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া উপজেলা) নিয়ে গঠিত আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন দেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ায় বিশাল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা ২ লাখ ৭১ হাজার ২শ ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দেন যুব ও ক্রীড়া সম্পাদকের পদ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়া হয়। আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মাশরাফি বিন মর্তুজা দ্বিতীয় বারের মত বে-সরকারি ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৪ ডিসেম্বর ভোটের মাঠে এসে মাত্র ১৪ দিনে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি এলাকা চষে বেড়ান। ভোটারও তাদের কথা রেখেছে তাকে বিপুল ভেটে বিজয়ী করেন।

প্রকাশিত ফলাফলে মাশরাফি বিন মর্তুজা পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১শ ২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ হাফিজুর রহমান। তিন পেয়ছেন মাত্র ৪ হাজর ৪১ ভোট। ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

মাশরাফির বন্ধু সুমন দাস বলেন, মাশরাফি অত্যান্ত ভালো মনের মানুষ। দ্বিতীয় বারের মত এমপি হয়েছে আমরা তাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে টায়।

সাংস্কৃতিক কর্মী গাজী আব্দুল মজিদ বলেন, নড়াইলের মানুষ সব সময় নৌকার পক্ষে ভোট দিয়ে আসলেও আমাদেও জেলায় কষনও মন্ত্রীত্ব আসেনি আমরা আশা করছি এবার মন্ত্রীত্ব পাবো।

আউড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম পলাশ বলেন, সংসদ সদস্য মাশরাফি বিগত পাঁচ বছরে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মাশরাফিকে মন্ত্রীত্ব দিলে নড়াইলসহ সারা দেশে উন্নয়নের ধারা আরও গতি পাবে।

জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খোকন কুমার সাহা বলেন, মাশরাফির ছোঁয়া তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নড়াইলবাসী আজিবন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননত্রেী শেখ হাসিনার সাথে থেকে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে আসছে। তাই আমাদের দাবি মাশরাফিকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হোক।

জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন আলম বলেন, নড়াইলের মাটি আওয়ামীলীগের ঘাঁটি, এখানকার মানুষ কখনও নৌকার বিরুদ্ধে যায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নড়াইলবাসীর দাবি একজন সৎ, যোগ্য, ন্যায়বান ব্যক্তি মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপিকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীয় নড়াইলবাসীর চাওয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মাশরাফিকে মন্ত্রীত্ব দিবেন।

বিজয়ী হয়ে মাশরাফি নড়াইলবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মন্ত্রীত্ব দেয়া না দেয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। আমি সংসদ সদস্য ছিলাম নতুন করে জনগন পুনরায় নির্বাচিত করেছে তাদের জন্য কাজ করতে চায়। যাতে নড়াইলের মানুষ ভালো থাকে।

মাশরাফি আরও বলেন,‘আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এক মাস ধরে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। লোহাগড়াবাসী সবসময় নৌকা প্রতিকে বিজয়ী করেছেন। এবার নড়াইল সদরের ভোটাররা লোহাগড়ার মতো ভোট দিয়েছেন। সর্বচ্চ চেষ্টা করব নড়াইলের উন্নয়নের জন্য’ কাজ করার। নড়াইল বাসীকে ধন্যবাদ জানান দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার জন্য। ধন্যবাদ জানাকে ভুল করেননি গণমাধ্যম কর্মিদেরও। বিগত ১৪টি দিন আমাদের পাশে থেকে সংবাদ পরিবেশনের জন্য ধন্যবাদ জানান, এই নড়াইল এক্সপ্রেস।